জাতীয় সংসদে সম্প্রতি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) সংশোধন বিল উত্থাপন ও পাস হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এই বিলে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ থাকায় বিষয়টি সংসদে বিতর্কের জন্ম দেয়।
বিরোধীদলের পক্ষ থেকে বিলে আপত্তি জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত সংসদে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ঘটনা দেশের রাজনীতিতে নতুন রাজনৈতিক অবস্থান ও সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সুশান্ত চন্দ্র বর্মন (শান্ত) বলেন,
“বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতির অস্তিত্বের ভিত্তি। এই ইতিহাসকে ঘিরে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা রাজনৈতিক স্বার্থের হিসাব করা উচিত নয়। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস এবং যারা এ দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল—তাদের ভূমিকা ইতিহাসের পাতায় যেমন রয়েছে, তেমনি সত্যকে সম্মান করেই আমাদের জাতীয় রাজনীতি পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য থাকা জরুরি। কারণ মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিচয়, স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চেতনার মূল ভিত্তি।
তিনি আরো বলেন রাজনীতি কখনোই এমন জায়গায় পৌঁছানো উচিত নয় যেখানে ইতিহাসকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করা হয়। বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা এবং জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের সব রাজনৈতিক শক্তি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে এবং একটি ঐক্যবদ্ধ ও উন্নয়নমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করবে।
— সুশান্ত চন্দ্র বর্মন (শান্ত)
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি)

