মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এখন সরাসরি আন্তর্জাতিক নৌপথ ও বাণিজ্যের ওপর পড়তে শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)-এর মালিকানাধীন জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালির কাছে পৌঁছেও পার হওয়ার অনুমতি পায়নি বলে জানা গেছে।
প্রায় ৪০ দিন ধরে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আটকে থাকার পর জাহাজটি গত বুধবার সৌদি আরবের একটি বন্দর ছেড়ে যাত্রা শুরু করে। প্রায় ৪০ ঘণ্টা সমুদ্রপথ অতিক্রম করে শুক্রবার হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছালে প্রণালি পার হওয়ার জন্য ইরান সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুমতি চাওয়া হয়। তবে তেহরান সেই অনুমতি প্রত্যাখ্যান করে এবং জাহাজটিকে নিরাপদ স্থানে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সুশান্ত চন্দ্র বর্মন (শান্ত) বলেন,
“মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি শুধু ওই অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর সরাসরি পড়ে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এই ধরনের পরিস্থিতি একটি বড় সতর্কবার্তা।”
তিনি আরও বলেন, “হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই পথে সমস্যা তৈরি হলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ, পণ্য পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ফলে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিয়ম মেনে ইরান সরকারের কাছে প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তারা অনুমতি দেয়নি এবং জাহাজটিকে ঘুরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেলবাহী জাহাজ চলাচল করে। তাই এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। কারণ দেশের জ্বালানি আমদানি, শিল্প উৎপাদন, পরিবহন ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ অনেকটাই বৈশ্বিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল। যদি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমাধান, শান্তিপূর্ণ সংলাপ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় থাকলেই বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো তাদের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা স্থিতিশীল রাখতে পারবে।
— সুশান্ত চন্দ্র বর্মন (শান্ত)
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি)
নিবন্ধন নং ৬২প্রতীকঃ দোয়াত কলম
মোবাইল নাম্বার ০১৭১৬৭০৫৯৬৮

