জুলাই আন্দোলন পরবর্তী রাজনীতির নতুন সমীকরণ—বর্তমান সরকার ও বিএনপির জন্য বাড়ছে রাজনৈতিক ঝুঁকি
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে ছাত্র আন্দোলন আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে প্রতিবাদের সূত্রপাত হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বিস্তৃত হয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে গড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত জুলাই আন্দোলন বা ‘জুলাই যুদ্ধ’ নামে পরিচিত ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা ঘটে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সুশান্ত চন্দ্র বর্মন (শান্ত) বলেন, “জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নতুন একটি রাজনৈতিক প্রজন্ম সামনে এসেছে। কিন্তু আন্দোলনের শক্তি যদি দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক আচরণের মধ্যে পরিচালিত না হয়, তাহলে তা ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ আজ এমন রাজনীতি দেখতে চায়, যেখানে আইনের শাসন, পারস্পরিক সম্মান, সুশাসন এবং সমঅধিকার নিশ্চিত হবে। নতুন প্রজন্মের রাজনীতি যদি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়, তাহলে তা দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনতে পারে; কিন্তু যদি উত্তেজনামূলক আচরণ, আইনশৃঙ্খলার প্রতি অবজ্ঞা কিংবা দায়িত্বহীন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, তাহলে তা ভবিষ্যতে বড় অস্থিরতার কারণ হতে পারে।
৫ আগস্টের ঘটনার পর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অনেক ছাত্রনেতা ও সংগঠক নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে সামনে আসতে শুরু করেন। কেউ কেউ নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন, কেউ আবার বিভিন্ন জোট বা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছেন। ফলে আন্দোলন থেকে উঠে আসা একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি এখন দেশের রাজনীতিতে দৃশ্যমান বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।
বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদ, সমাবেশ কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অনেক সময় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হতে দেখা যাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক বা অশোভন আচরণের ঘটনাও সামনে আসছে। এসব দৃশ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে এবং দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবনার জন্ম দিচ্ছে।
একসময় এই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের পতন। সেই লক্ষ্য অর্জনের পর এখন দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার এবং বিএনপি—উভয় রাজনৈতিক শক্তিই এখন এই নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। যদি আন্দোলন থেকে উঠে আসা শক্তিগুলো দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ না করে এবং উত্তেজনাপূর্ণ রাজনীতি অব্যাহত থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে তা বর্তমান সরকার এবং বিএনপি—উভয়ের জন্যই রাজনৈতিকভাবে বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
দেশের জনগণ চায় একটি স্থিতিশীল, দায়িত্বশীল ও জনগণকেন্দ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ। তাই সব রাজনৈতিক শক্তির উচিত পারস্পরিক সম্মান, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করা। জনগণের আস্থা অর্জন করেই একটি রাজনৈতিক দল সত্যিকারের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
— সুশান্ত চন্দ্র বর্মন (শান্ত)
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি)

